ঢাকা   ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

কীটনাশকের বিকল্প পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও ইঁদুর নিধনের অভিনব কৌশলী হালুয়াঘাট কৃষি অফিস

Logo Missing
প্রকাশিত: 03:26:55 pm, 2020-10-04 |  দেখা হয়েছে: 30 বার।

মুহাম্মদ মাসুদ রানা, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটে চলতি আমন মৌসুমে পোকা মাকড় ও ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষায় কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষকদের আলোক ফাঁদ,পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার ও ইঁদুর নিধনে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি প্রয়োগে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে হালুয়াঘাট কৃষি অফিস।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমি। এবার রোপা আমন মৌসুমে ব্রি-ধান-৫১, ৫২, ৪৯ জাতের ও বিনা ধান-৭ সহ দেশীয় জাতের তুলশীমালা, কালোজিরা ধান আবাদ করা হয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে ব্রি-ধান- ৪৯। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তার জন্য কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগের বিকল্প পদ্ধতি
ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে সরেজমিনে কাজ করছে হালুয়াঘাট কৃষি অফিস।

চলতি রোপা আমন মৌসুমে পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয়ে একযোগে ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মোট ৩৭টি ব্লকে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার  শুরু করেছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলোক ফাঁদ পেতে পোকা দমনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার প্রদর্শনী করছে। এতে উৎসুক কৃষক আগ্রহের সাথে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিজ ফসলী জমিতে প্রয়োগ করছে। সেই সাথে ইদুরের আক্রমন হতে রোপা আমন ধানকে রক্ষায় ইদুর নিধন কলা-কৌশল কৃষককে অবহিতকরণ বিষয়ক কর্মশালা চলমান রয়েছে। তার আলোকে গত ১লা অক্টোবর শাকুয়াই বাজারে, শাকুয়াই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার পল্লব সরকারের উপস্থাপনায় ও ইঁদুর নিধনে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রশিক্ষক মাওলানা ফজলুল হকের আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান। এসময় শাকনাইট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোছাঃ আকলিমা খাতুন সহ এলাকার কৃষক, স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও
সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

পার্চিং, আলোক ফাঁদ ও  ইঁদুর নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, সচেতনতার অভাবে অনেক কৃষক জমিতে তিকর পোকা আক্রমণ করার আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। এতে করে ফসলের জমির উপকারী অনেক পোকা মারা যায়। কৃষকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পার্চিং পদ্ধতি, আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে তিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ের পর কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। এবার আবাদের তুলনায় ফলন ল্যক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাও করছেন কৃষি কর্মকতাগণ।