ঢাকা   শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

হালুয়াঘাট পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক ভাবনা

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:07:10 am, 2020-05-30 |  দেখা হয়েছে: 36 বার।

 হালুয়াঘাট থেকে মুহাঃ মাসুদ রানাঃ- বছরের পর বছর চেষ্টা করেও হালুয়াঘাটের জলাবদ্ধতা সমস্যার কোনো সুরাহা হচ্ছিলো না। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যেতো নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ৷ তার মাঝে অন্যতম ছিলো হালুয়াঘাটের বালিকা বিদ্যালয় সড়ক। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানুষের কষ্টের কোন সীমা- পরিসীমা ছিলোনা। ইতোপূর্বে হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যারা ছিলেন তাদের কোন রকম চেষ্টা কখনো পরিলক্ষিত হয়নি। পৌরসভা গঠনের পরও পর্যায়ক্রমে যারা পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন তারও শতভাগ আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করেননি। অতঃপর নির্বাচিত পৌরসভার মেয়র মোঃ খায়রুল আলম ভূঁইয়া এবং সকল কাউন্সিলরবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হালুয়াঘাট বাজার তথা পৌর শহরের অবস্থা বর্তমানরুপ লাভ করে। এর পরও কি জলাবদ্ধতা শেষ হয়েছে? না হয়নি। এ বিষয়ে নাগরিক ভাবনা পৌরবাসীর কাছে তুলে ধরা হলো। খোরশেদ আলম মুক্তা ( সমাজকর্মী):-ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান অত্যন্ত ব্যয় বহুল। পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে করা খুব সময় সাপেক্ষ হবে। তাই পৌর মেয়র আরও একটু সচেষ্ট হলে ভিন্ন কোন উৎস হতে এর অর্থায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করি। নগরের পূর্ব পাশ দিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা হয়তো ভাবনায় আছে। আশা রাখি ধাপে ধাপে (যেমনটি চলছে) এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, সমস্যা হতে নগরবাসী অবশ্যই মুক্তি পাবে। নাদিম আহমেদ (ব্যবসায়ী):- পৌর এবং বাজার এলাকার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনসমুহ প্রসস্থ করে নদী মুখী করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পৌর মেয়র মহিলা কলেজ হতে শুটকী মহাল হয়ে নদী পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করেছেন। যা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। হাদিসের মোড় হতে মেইন রাস্তা ধরে মাছ মহাল ও পাঠাগারের সামনে দিয়ে জিরো পয়েন্টের ড্রেইনের সাথে মিলিয়ে নদীতে নামিয়ে দিতে হবে। উপজেলা পরিষদের পানি এক মিটার ব্যাসের আরসিসি পাইপ দিয়ে উপজেলা গেইটের পশ্চিম পার্শ্বে নদীতে নামাতে হবে এবং হালুয়াঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদের গেইট হতে শুরু করে শহীদ মিনার হয়ে সুরুজ চেয়ারম্যানের বাসার সামনে দিয়ে টানাব্রিজ খালে মিলিয়ে দিতে হবে। মুহা: আব্দুল ওয়াহাব ( শিক্ষক): পরিকল্পনা হীন যত্রতত্র ঘর বাড়ি নির্মানের ফলে নগর জীবনের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে অতীতে কোন চেয়ারম্যান তথা জন-প্রতিনিধির কোন কার্যকর ভূমিকা চোখে পরেনি, তবে খায়রুল আলম ভূঞা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জলাবদ্ধতা দূর করনের নিমিত্তে দৃশ্যমান কিছু কাজ করেছেন এবং কিছু স্হায়ী পরিকল্পনাও তার আছে। তবে এক্ষেত্রে নাগরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এক সময় মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা ( মডেল প্রাথমিক বিদ্যাঃ ও সরকারি আদর্শ উ/বি এলাকা) জলে নিমগ্ন থাকত। এবছর পৌরমেয়রের তড়িৎ ভূমিকার কারণে এখানে জলাবদ্ধতা নেই। চলমান দুটি কোটি টাকার প্রকল্প (১) মডেল সরকারি প্রাঃ বিঃ থেকে বেপারি পাড়া পর্যন্ত ড্রেন কাম পাকা রাস্তা (২) চিত্রা সিনেমা হলের সামনে থেকে নদী পর্যন্ত গভীর ড্রেন। প্রকল্প ২টির৭৫% কাজ হয়েছে। এ প্রকল্প দুটি সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে যাবে।আশা করি দ্রুততম সময়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে নদীতে আরও একটি গভীর ড্রেনের ব্যবস্থা করবেন। হুমায়ুন কবীর মানিক ( সাংবাদিক): হালুয়াঘাট সদরে অবৈধ দখল মুক্ত করন এবং ছোট বড় নালা,খালগুলোর প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করে পানি প্রবাহ কে নদীমুখী করা, সেই সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহন এবং নদী খনন করা হলে হালুয়াঘাটের দীর্ঘ দিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে। সালেহ আহম্মেদ (সাবেক চেয়ারম্যান):- পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো নয়। তবে কেন্দ্রীয় গোরস্থান এলাকা ও হালুয়াঘাট উত্তর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য আহবান জানাই। কবিরুল ইসলাম বেগ ( বীর মুক্তিযোদ্ধা):- হালুয়াঘাটের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আমরা এখনও জলাবদ্ধতার মাঝে আছি। হালুয়াঘাট প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল ড্রেন নদীমুখী করে মাষ্টারপ্ল্যান করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র মোঃ খায়রুল আলম ভূঁইয়া জানান, আমরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় সরকার বরাবর মাষ্টারপ্ল্যান করার জন্য চিঠি লিখেছি। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে মাষ্টারপ্ল্যানের বিকল্প নেই।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!