ঢাকা   শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

নুহাশ পল্লীতে একদিন--- মোহাম্মদ মাসুদ কবির

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:50:45 am, 2019-11-24 |  দেখা হয়েছে: 18 বার।

গাজীপুর জেলা সদরের পিরুজালী গ্রামে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ ১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে ( যার বর্তমান আয়তন ৪০ বিঘা) তাঁর ছেলে নুহাশের নামানুসারে গড়ে তুলেন নুহাশপল্লী। এই পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ুন আহমেদের স্পর্শ ও ভালোবাসা। তাই তাঁর প্রতিষ্ঠিত নুহাশপল্লী সকলকেই আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন নাটক, সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি নুহাশপল্লীতে হুমায়ুন আহমেদ তাঁর জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন।
বহু আগে থেকেই নুহাশপল্লীতে যাওয়ার ইচ্ছা আমার মনের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে তিনি পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত নুহাশপল্লী দেখার বাসনা আরও প্রবল হয়ে উঠল। তারপর একদিন বন্ধুদের সাথে আমার ইচ্ছাটার কথা শেয়ার করলাম। ব্যাস, সবার ইচ্ছায় ভ্রমণের তারিখ ঠিক হলো। সময়টা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি হবে। আমরা ৭-৮ জন বন্ধু মিলে মাইক্রোবাসে করে সকালে যাত্রা শুরু করলাম। কাঙ্খিত নুহাশপল্লীর উদ্দেশ্যে। আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছলাম। একটু দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল অনিন্দ্য সুন্দর এক পরিবেশে নুহাশপল্লী। সত্যি কথা বলতে কি- নুহাশপল্লীতে প্রবেশের পরই দৃষ্টিনন্দন সবুজ প্রান্তর দেখে আমাদের চোখ জুড়িয়ে গেল। ভেতরে প্রবেশ করেই লেখকের অশরীরী উপস্থিতি অনুভব করতে লাগলাম। লেখক যেমন মনের মাধুরী মিশিয়ে নানা গল্প, উপন্যাস, নাটক, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তেমনি আপন হাতেই তিনি সাজিয়েছেন তাঁর প্রিয় নুহাশপল্লীকে। তারপর এক এক করে চোখে পড়ল মা ও শিশু নামক ভাস্কর্য, মাথার খুলির ভাস্কর্য আর এর পাশেই তৈরি করা হয়েছে আঁকা বাঁকা সুইমিং পুল। আরও আছে হুমায়ুন আহমেদের কটেজ ‘বৃষ্টি বিলাস’। ভূতবিলাস নামক আরও একটি ভবন রয়েছে। এছাড়া কনক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মৎস কণ্যা, রাক্ষস ও ডাইনোসরের মূর্তি। নুহাশপল্লীর সর্ব উত্তরে রয়েছে লীলাবতী দিঘি আর দিঘির মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ যা একটি কাঠের সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত। সবুজ ঘেরা এই নুহাশপল্লীতে রয়েছে একটি ঔষধী গাছের বাগান। এছাড়ও রয়েছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশী বিদেশি নানা রকম ফুল ও ফলের বৃক্ষ। তাছাড়া এখানে গেজুর গাছ ও চা গাছও লাগানো হয়েছে। এবার আমার সবাই সব কিছু দেখে এসে খোলা মাঠের মধ্যে বসলাম। আমার বন্ধু কামরুল হাসান রিপন, ফরিদ আহাম্মদ ও শাহিন আহমেদসহ সবাই একে একে প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর বিভিন্ন রচনা, নাটক, সিনেমা ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কথা বলল। আমিসহ বাকী সাবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ওদের কথা শুনছিলাম। প্রিয় লেখক সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানা হল আমাদের। এমনকি অন্যান্য দর্শনার্থীরাও আমাদের আড্ডায় যোগ দিল। হঠাৎ আনমনে তাঁর লেখা একটি সিনেমার গান “একটা ছিল সোনার কণ্যা, মেঘ বরণ কেশ” গুনগুন করে গেয়ে উঠলাম। তারপর আর কি সবার অনুরোধে আরও কয়েটি গান গাইলাম। ঠিক পরিবেশটা তখন অন্যরকম লাগছিল।
এবার শফিকের প্রস্তাবে আমরা সাবাই হুমায়ুন আহমেদের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ ফাতেহা পাঠ করলাম। তাঁর জন্য দোয়া করলাম। কখন যে সবার চোখে পানি এসেগেছে আমরা তা টেরই পাইনি। কিন্তু তবু কেন জানি মনে হয়, লেখক দূর থেকে আমাদেরকে দেখছেন অথবা ঐখানে বসেই দেখছেন হয়তো; হয়তো বা সেটি এ মর্তের কোন মানুষের চোখে পড়বে না কোন দিন। তারপরও তিনি আমাদের মাঝে অসংখ্য ভক্ত পাঠক- শ্রোতা-দর্শকের মাঝে বেঁচে থাকবেন। মনে হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গানের চরণÑ
নয়ন সমুখে তুমি নাই নয়নের মাঝখানে নিয়েছো যে ঠাঁই।

লেখক:
প্রধান শিক্ষক
সমশ্চূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নালিতাবাড়ী, শেরপুর।