ঢাকা   রবিবার ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

কিশোর অপরাধ ও আমাদের করণীয়..... মুহাম্মদ মাসুদ কবির

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:45:27 am, 2019-11-23 |  দেখা হয়েছে: 28 বার।

ইংরেজী Juvenile Delinquency এর বাংলা দাপ্তরিক অর্থ হলো কিশোর অপরাধ। শব্দ যুগলটি বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি- কিশোর মানে যাদের বয়স ৯ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং অপরাধ মানে মূল্যবোধ ও নিয়মনীতি বিরোধী কাজ। সুতরাং কিশোর অপরাধ বলতে বোঝায় কিশোর বয়সীদের দ্বারা সংঘটিত সমাজে বিদ্যমান মূল্যবোধ, প্রচলিত রীতিনীতি, আইনকানুন পরিপন্থি’ কাজ। মূলত বিশেষ ধরনের অস্বাভাবিক ও সমাজ বিরোধী কাজ যা কিশোর-কিশোরীরা সংঘটিত করে তাকে কিশোর অপরাধ বলে। তবে ঈৎরসব ধহফ ঔাঁবহরষব উবষরহয়ঁবহপু অর্থাৎ অপরাধ ও কিশোর অপরাধের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্করা সুচিন্তিত ভাবে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অপরাধ মূলক কাজ করে। পক্ষান্তরে, অপ্রাপ্ত বয়স্করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিণাম চিন্তা না করে পরিবেশ ও আবেগের বশবর্তী হয়ে অপরাধ মূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে অপ্রাপ্তবয়স্করাও অনেক গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় অপরাধ ও কিশোর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা অত্যন্ত দূরুহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রবণতা বাড়লেও সাম্প্রতিক কালে এ প্রবণতা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সমাজে বিদ্যমান হতাশা, নৈরাজ্য আর দারিদ্র কিশোর অপরাধ সৃষ্টির প্রধান কারণ। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সকল কাজকে কিশোর অপরাধের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেগুলো হলো- পকেটমারা, কারোও বাড়ীতে ঢিল ছোড়া, মেয়েদের দেখে শিস দেওয়া, বাড়ী থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া, বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা, অন্যের গাছের ফল চুরি করা বা খাওয়া, বড়দের সাথে বেয়াদবি করা, নেশা করা, মারপিট করা, ঘরের জিনিস চুরি করা, প্রতারণা করা, মিথ্যা বলা, পর্নো ছবি দেখা, ইভটিজিং ইত্যাদি।
কিশোর অপরাধ কখনও একক কোন কারণে সৃষ্টি হয় না। এর মূলে থাকে দৈহিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিক, ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি উপাদানের এক জটিল ও মিশ্র প্রক্রিয়া। বিশেষ করে যৌথ পরিবারের ভাঙন, সঙ্গদোষ, দারিদ্র, নিক্ষরতা ও অজ্ঞতা চিত্তবিনোদনের অভাব ইন্টারনেটে সহজলভ্য পর্ণো সাইটের প্রসার, আইন শৃঙ্খলার দূর্বলতা, সংঘাতময় বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঋতুর প্রভাব, সহজলভ্য অস্ত্র, পিতা-মাতার মধ্যে কলহ বা ছাড়াছাড়ি, পিতা-মাতার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ সামঞ্জস্যহীন পারিবারিক আচরণ তথা অতি স্নেহ বা অতি শাসনের কারণে কিশোর কিশোরীরা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই এসব দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার তথা আমাদের সকলের উচিত কিশোর অপরাধ নিরসনকল্পে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। যেমন- কিশোর অপরাধ মোকাবেলায় সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, কিশোর-কিশোরীদের সুষ্ঠু আবেগীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে যতœবান হওয়া, সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্র শিশু কিশোরদের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশে পিতা-মাতাকে যতœবান হওয়া ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সন্তানের ভালোলাগা ও মন্দলাগাকে বিবেচনা করা, কিশোরদের সুষ্ঠু সামাজিকরণের জন্য গঠনমূলক পারিবারিক, সামাজি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং দেশে পর্যাপ্ত কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্র গড়ে তোলা ইত্যাদি।

সর্বোপরি বলা যায় “কিশোর অপরাধ” সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা সহ প্রতিরোধ ও সংশোধন মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা সামাধান করা সম্ভব।

লেখক:
প্রধান শিক্ষক
সমশ্চূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নালিতাবাড়ী, শেরপুর।