ঢাকা   মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন এক বাঙালিসহ তিনজন

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:11:43 pm, 2019-10-15 |  দেখা হয়েছে: 3 বার।

উন্নয়ন অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিন অর্থনীতিবিদকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি। তার নাম অভিজিৎ ব্যানার্জি। পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকি দুই অর্থনীতিবিদ হলেন অভিজিতের স্ত্রী ফরাসি নাগরিক অ্যাস্থার ডাফলো ও মার্কিন নাগরিক মাইকেল ক্রেমার। সম্মানী হিসেবে তাদের ১১ লাখ মার্কিন ডলারও দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। বিবিসি, এএফপি ও বাংলা ট্রিবিউন।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। তবে অর্থনীতিতে নোবেল দেয়া শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। এবার ৫১তম বারের মতো এই পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। যার মাধ্যমে শেষ হলো এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা। উল্লেখ্য, চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করলেন অভিজিৎ আর নোবেল পাওয়া বাঙালি অর্থনীতিবিদ হিসেবে অভিজিতের অবস্থান দ্বিতীয়। এর আগে ভারতীয় বাঙালিদের মধ্যে অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছিলেন অমর্ত্য সেন। আর বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল জিতেছিলেন শান্তিতে। প্রথম বাঙালি হিসেবে নোবেল পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে।
অভিজিৎ ব্যানার্জি ১৯৬১ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দীপক ব্যানার্জি ছিলেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক এবং তার মা নির্মলা ব্যানার্জিও ছিলেন সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, কলকাতার অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক। তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে লেখাপড়া করেন। যেখান থেকে ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ১৯৮৩ সালে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে পিএইচডি করার জন্য হার্ভার্ডে ভর্তি হন। পিএইচডিতে তার থিসিসের বিষয় ছিল ‘এসেস ইন ইনফরমেশন ইকোনমিকস’।
অভিজিতের ফরাসি স্ত্রী অ্যাস্থার বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতির নোবেল প্রাপক। এ ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি। এর আগে কেবল একজন নারীই পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি হলেন এলিনর অসট্রম। ২০০৯ সালে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এমআইটিতে আব্দুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাস্থার ডুফলো ইতিহাস ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন প্যারিসে। পরে এমআইটিতে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন তিনি ১৯৯৯ সালে। তিনি আমেরিকান ইকনোমিক রিভিউর সম্পাদক।
এবারের বিজয়ীদের তৃতীয় জন মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ডের অর্থনীতি বিভাগে প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের ফেলো। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের ইয়াং গ্লোবাল লিডারও মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।
অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, অ্যাস্থার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমারÑ এই তিনজনই অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন এবং বেশ কিছু বইয়ের লেখক। যৌথভাবে নোবেল পাওয়াতে পুরস্কারের অর্থ হিসেবে নব্বই লাখ সুইডিশ ক্রোনার এখন তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে।
দ্য রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, এই তিনজন অর্থনীতিবিদের গবেষণা দারিদ্র্যের সাথে লড়াইয়ের সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করেছে। মাত্র দুই দশকে তাদের নতুন নিরীক্ষাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসে রূপ নিয়েছে, যা এখন গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!