ঢাকা   সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর বালুতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:31:03 pm, 2019-09-21 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।


নালিতাবাড়ী, শেরপুর: নালিতাবাড়ী থেকেঃ শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ী ভোগাই নদীর অববাহিকায় জেগে উঠা চরের বালু কাটার খনন কাজে কাজ করে পাহাড়ী অঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক ও এলাকাবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এই নদীর পাহাড়ী লালবালু সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় এই বালু উত্তোলন ও খনন কাজে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে এখানকার শ্রমিকরা।
এদিকে জেলা প্রশাসন অফিস থেকে বালু মহাল ইজারা আদেশ ইজারাদারের নিকট নির্ধারিত সময়ের ৪ মাস পরে দেওয়ায় ইজারদার আর্থিক ক্ষতির স¤œুখিন হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই পাওনা ৪মাস সময় ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন ইজারাদার মের্সাস আল আমিন ট্রেডার্স এর প্রোপাইটার মোঃ শহিদুল ইসলাম।
সূত্রে, ভারত থেকে বয়ে আসা পাহাড়ী ভোগাই নদী বাংলাদেশের সীমানা দিয়ে নালিতাবাড়ী সীমানা হতে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ব্যাতিত শিমুলতলা পর্যন্ত ভোগাই নদীর ইজারা প্রদান করেছে শেরপুর জেলা প্রশাসন। বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবার সরকার প্রায় ১০ গুন বাড়িয়ে এটি ৩২ লক্ষ টাকা রাজস্ব বাজেট ধার্য করেন। যা সর্বোচ্চ ভোগাই নদীর রাজস্ব ডাকের রেকর্ড। এতে করে রাজস্ব আয় যেমন বেড়েছে তেমনি এই পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের ভাগ্য পরির্বতন হয়েছে। সেই সাথে এই পাহাড়ী অঞ্চলে যে সব মানুষ কর্ম না পেয়ে বিভিন্ন অপরাধ অপর্কমে জড়িত ছিল তারা এখন কর্মব্যস্তায় জীবন অতিবাহিত করছে। একই সাথে নদীর চরের কারনে নদীতে যে নাব্যতা ছিল সেটি কমে গেছে এবং বালু খননের কারনে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর নদী উপচে পানি প্রবাহিত হয় না। ফলে বন্যা এবং নদী ভাংগন অনেকাংশে কমে এসেছে। বালু খননে নদীর তলদেশে পানি থাকায় কারনে নদীতে পানির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষক সেই পানি দ্বারা সেচের কার্যক্রম দেদারচে পরিচালিত করছে। নদী পার এলাকাসহ বাড়ছে কৃষি আবাদ। ফলে নদীর বালুর চর খনন বা কাটা হলেও বাড়তি সুবিধার অংশই অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা।
এব্যাপারে এলাকাবাসী বাবুল মিয়া বলেন, আমি আগে কাঠ ব্যবসায়ী ছিলাম। এখন বালুর ব্যবসা করছি। বৈধ ভাবে ইজারাদারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বড় বড় চর কেটে বালু দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি এবং অবাদে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছি। এতে করে আমি, আমার পরিবার ও এলাকাবাসী সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারছি।
শ্রমিক আঃ বাছেদ, হীরা, সবুজ, মহর উদ্দিন বলেন, আমরা যারা শ্রমিক আমরা বেকার ছিলাম। কোন কাজ কর্ম ছিল না। জেলা প্রশাসন থেকে ডাক হওয়ায় এখন আমরা কাজ পেয়েছি। পরিবার বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সংসার চালাতে পারছি।
ইজারাদার মের্সাস আল আমিন ট্রেডার্স এর প্রোপাইটার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বছরের শুরতেই আমি লিখিত ইজারা পেলেও প্রশাসন বলে যে, পৌরসভার ভিতরে কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেল, মহিলা কলেজ, তারাগঞ্জ গালস স্কুল, তারাগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, থানা, মসজিদ ও শহর রক্ষা বাধের সমস্যা ও অভিযোগের কারনে প্রশাসন নদী সার্ভে করতে গিয়ে সময় লেগে যায়। ফলে ইজারাদারকে সময়ে বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ফলে আমি ৪ মাস সময় কোন কাজে লাগাতে পারিনি। এখন আমি জেলা প্রশাসনের নিকট এই ৪ মাস সময় চেয়েছি। ইতিপূর্বেও ভোগাই নদীতে বড় বড় চর ছিল। এই জাগ্রত চর গুলি ইজারা বন্দোবস্তো হওয়ায় এখন এটি কাটায় নদী খনন হয়েছে। নদীর গভীরতা বেড়েছে ফলে নদীর চর কাটার প্রয়োজন হয় না। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ছবিতেঃ ১। নালিতাবাড়ীর সীমান্ত পাহাড়ী ভোগাই নদী।
২। নদী পার এলাকায় কর্মরত শ্রমিকবৃন্দ।