ঢাকা   সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

প্রশ্নটা বিবেকের কাছে...... মনিরুল ইসলাম মনির

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:25:26 am, 2019-09-15 |  দেখা হয়েছে: 18 বার।

শখের বশে এসে নেশা-পেশায় পরিণত হয়েছে মাঠে-ময়দানে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করা। ইতিমধ্যেই ১৭ বছর পেরিয়ে ১৮ বছরে চলছি। দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগে যতোবার কোন অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদে জ্বলে উঠেছি ততোবার আমাকে নিয়ে নানান কিছু হয়েছে। হুমকী, হামলা, মামলা, অফিস ভাংচুর-লুট, গাড়ি ভাংচুর, শিবির কর্মী-সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ইত্যাদি বানিয়ে শেষ পর্যন্ত চরিত্র নিয়ে পারিবারিক বিষয় পর্যন্ত ঘাঁটাঘাঁটি হয়েছে। কিন্তু আমি আমিই রয়ে গেলাম। উপরন্তু যতবার নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তার চেয়ে ভাল কিছু অর্জন হয়েছে। পেছনের কারনটা খুব সহজ। ক্ষোভের কারণ ছিল সেসব লোকেদের মুখোশ খুলে দেয়া। যদি আমার লেখনিতে এক চিলতে মিথ্যে হতো তবে এতদিনে কেউ না কেউ সেগুলো ভুল প্রমাণ করতে পারত।
সবার মনে আছে কি না জানি না? একবার সার কেলেঙ্কারী নিয়ে দৈনিক আমার দেশ-এ প্রতিবেদন করায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কার ইশারায় হয়েছিল সবই জানি। শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি সেই মামলা। উল্টো বাদীপক্ষ নিজেরাই প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ভোট কারচুপির অভিযোগে শহরে লাঠি মিছিল হয়েছিল। ছবিসহ এ সংবাদ করায় কারও কারও ইন্ধনে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মধ্য বাজার চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সভা হয় আমার বিরুদ্ধে। ওই সভার সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক নেতা আর বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক নেতা। আমি সে জন্য মোটেই বিচলিত হইনি এবং মনে কষ্ট রাখিনি। কারন, ওই একটি সভা আমার পেশাগত জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তাই সাধুবাদ জানাতে হয় কৃতজ্ঞতার স্বার্থে।
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারকে নিয়ে ‘ক্রাইম সার্চ’ অনুষ্ঠান করায় আমার বিরুদ্ধে নারীঘঠিত অপবাদ তোলা হলো। দুর্নীতির সংবাদ করায় অফিসে হামলা ও সমস্ত মালামাল লুট হলো। এখন আবার অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ করায় আমার গোষ্ঠীশুদ্ধ উদ্ধার করা হচ্ছে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে। সমস্যা নেই। কারও গোপন দোষ প্রকাশ করলে (যা সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর নয়) তার পাপের দায়ভার প্রচারকারীর (গীবতকারী) উপর বর্তায়। আর মিথ্যে অপবাদ বা রটনা, সেতো কথাই নেই। কাজেই হতাশার কিছু নেই। দেশে বহু বড় বড় সংবাদপত্র ও সম্পাদকদের নিয়ে হৈচৈ হয়। বন্ধের আন্দোলন হয়। কুশপুতুল পুড়ানো হয়। লেখালেখি হয়। আজও কারও সম্মান বা অবস্থান নিচে নামতে দেখলাম না। উপরন্তু দিনকে দিন সেসব সম্পাদক ও পত্রিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। কাজেই যা হচ্ছে তাতে লোকসানের শঙ্কা দেখছি না। লোকসানে তো তারা পড়ছে, যারা এর কারিগর। আর অপপ্রচারকারীরা নিজেদের নোংরা অবস্থান সমাজে জানান দিচ্ছে।
প্রথমত, বলা হয় আমি শিবিরকর্মী। হলফ করে বলতে পারি, জামায়াত-শিবিরের কোন ছায়া পর্যন্ত আমাকে সম্পর্শ করেনি। যদিও রাজনৈতিক দল করা মানে অপরাধী নয়। সময়ের ব্যবধানে একেক দল একেক সময় তর্ক-বিতর্কে জড়ায়। খোলাখোলি সবাইকে জানিয়ে রাখি, ছাত্রজীবনে তাবলীগ জামায়াতে সময় দেওয়া ও আলেমদের সংস্পর্শে থাকার কারণে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের প্রতি দূর্বলতা তৈরি হয়। সে দূর্বলতা থেকে ছাত্র মজলিস করেছি। শুধু করিনি। ওই সময় শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কেউ বলতে পারবেন না, এ দলটি দেশবিরোধী বা বিতর্কিত কোন কর্মকান্ডে আজও জড়িয়েছে। অল্প কিছুদিন পরই পেশাগত জীবনে এসে দল থেকে সরে দাড়াই। এরপর দৈনিক আমার দেশ-এ কাজ করার কারণে অনেকেই আমাকে ‘বিএনপি’র সাংবাদিক’ বলে কোণঠাসার চেষ্টা করে। বলতে দ্বিধা নেই, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের পিঠ বাঁচাতে বিএনপিতে যোগদান করি। বয়স বিবেচনায় না এনে নেতৃবৃন্দ পেশাগত বিবেচনায় আমাকে সরাসরি উপজেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন। কিছুদিন গেলে বাংলার কাগজ পত্রিকাটি অনুমোদনপ্রাপ্ত হই। নির্ধিদ্বায় বলা যায়, উপজেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক হয়ে আওয়ামী লীগের সান্নিধ্য আমাকে প্রভাবিত করে। ফলে গত কয়েক বছরে বিএনপি-রাজনীতি দুটোই ত্যাগ করে পুরোপুরি পেশাদারিত্ব নিয়ে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত রেখেছি নিজেকে। আনুকূল্যের জন্য নয়, আমার প্রতি বর্তমান সরকারে থাকা নেতৃবৃন্দের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমি চিরকৃতজ্ঞ। ফলে এর বাইরে কোন চিন্তা আমার মাথায় নেই। নেই রাজনীতি করার চিন্তাও। রাজনীতি আমার জন্য নয়।
দ্বিতীয়ত, আমাকে সন্ত্রাস-বোমাবাজ বলা হয়। ছোট্ট করে বলতে বাধ্য হচ্ছি। আইন অনুসারে আমি এ কথার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিজয়ী হতে পারি। আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করলে আপনি কারও বেলায় কোন অপরাধ-আপত্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। সনদ অনুযায়ী তের বছর বয়সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার ফলে কৌতুহল বশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগার থেকে কিছু রাসায়নিক নিয়ে বাসায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বরূপ নাড়াচাড়া করছিলাম। সে সময় হাতের কাছে জ্বলন্ত ইলেক্ট্রিক বাল্ব থাকায় তা ফেটে গিয়ে আমি আহত হই। পরিবারে সচেতন লোকের অভাবে তখন বিস্ফোরক মামলায় জড়িয়ে যাই। পুলিশ জব্দকৃত আলামত বোমার সরঞ্জাম বলে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে কিছুদিন পরই নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হই আদালতে। এখনও কেউ চাইলে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নিতে পারেন।
তৃতীয়ত, নবী-রাসুল থেকে শুরু করে বর্তমান সমাজের অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারে, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কিছু মানুষ থাকে গন্ডির বাইরে। যারা হয় বেপরোয়া অথবা সবার শাসনের বাইরে। পরিবারের লোকেরা ব্যর্থ হয় ওদের সামলাতে। তাই বলে ওইসবের দায়ভার পরিবার অন্য কেউ বহন করে না। কারও অপরাধে অন্য কেউ শাস্তি পায় না। যার তার কৃতকর্মের দায়ভার তারই। শুধুমাত্র পরনিন্দাকারীরাই এসব নিয়ে ঘুরে। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ পরিবারবর্গেই কেউ না কেউ নষ্টের পথে অথবা বেপরোয়া হয়। কারোর বেলায় প্রকাশ পায়, কারও না। কাজেই আমার আত্মীয়-স্বজনের কারও দায়ভার আমার নেই। পারিবারিক যোগাযোগও নেই তাদের সাথে। বিষয়টি প্রমাণের জন্য কারও শখ থাকলে ঘেঁটে নিতে পারেন।
চতূর্থ, একজন নারী সহকারী বেশ কিছুদিন কাজ করল পাশাপাশি টেবিলে। ২ জন সংবাদ উপস্থাপিকা এখনও রয়েছে। সবাই আমার পরিবারের সদস্যের মতো। শিক্ষা জীবনে শৈশব থেকে ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়াশোনা করেছি। কোথাও কোনপ্রকার সামান্যতম দাগ কেউ বের করতে পারলে মাতৃভূমি ত্যাগ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারি। উপরন্তু পেশাগত কারণে অনেক অসহায় নারী বা মেয়ে নানা মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ভেবে যোগাযোগ করেন। যে যাই ভাবেন, নিজের পরিবারের সাথে বাসায় আশ্রয় দিয়ে পর্যন্ত পাশে দাড়িয়েছি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তা মুসলিম থেকে হিন্দু-খ্রীষ্টান পর্যন্ত রয়েছে। এটি আমার গৌরবের বিষয় বলব এ জন্য যে, তারা আমাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন। নিন্দুকেরা জানে না, পরিবারে সাথে থেকে কেউ অন্যায় করার সুযোগ নিতে পারে না।
পঞ্চম, অনেকেই বিয়ে-শাদী নিয়েও বিতর্ক করেন। জীবনে প্রেম করে বিয়ে করিনি, তবে শুধুমাত্র পছন্দ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছি। একটি পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের জামাই-শ্বশুর সম্পর্কের কারণে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কথা না বাড়িয়ে যা শোনেছি তাতেই মত দিয়েছি। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত অনেক সীমাবদ্ধতা মানুষের থাকে। আমিও কোন সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিলাম। মূলত আমার সহধর্মীনি মারা যাওয়ার পর সেই আত্মীয় মেয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে বাসায় আমার শিশুটিকে দেখাশোনা করছে। রাস্ট্রীয় অনুশাসন সময় বলে দেবে। প্রায় প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে। তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা নিশ্চই ভালো মানুষের কাজ নয়। কিন্তু সব পরিবেশে মিশেও একটি অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ কোন না কোনভাবে কেউ উপস্থাপন করুন। বিচার মাথা পেতে নেব।
জীবনে সহপাঠী মেয়েদের সাথে খুব বেশি মেশা, ধূমপান করা, বাজে বন্ধুদের সাথে সময় দেওয়া এসব কোন বিষয়েই কেউ নূন্যতম প্রমাণ দেখাতে পারলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। একটিমাত্র মেয়েকে মন দিয়ে ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু তা ছিল কেবল মনেপ্রাণেই। নোংরামী স্পর্শ করেনি জীবনে। নানা কারণে গাঁটছড়া বাঁধা হয়নি। ওই ঘটনা অবলম্বনে ২০০৯ সালের একুশে বই মেলায় ‘ছন্দপতন’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলাম। পবিত্রতা-সৎ সাহস না থাকলে হুবুহু ঘটনা তোলে ধরে বই প্রকাশের সাহস দেখাতাম না।
ধারণা যে যাই করুক, আমার জীবনে এতটুকু অপরাধ বা দাগ রেখে চলি না যা আমলযোগ্য। হ্যাঁ, চলতে গেলে সামান্য ভুল হতে পারে। লোকচোখে তা অনেক কিছুই মনে হতে পারে। কাউকে নিয়ে মন্তব্যের আগে সত্যতা যাচাই করা জরুরী। সবচেয়ে অবাক লাগে, পরিবারের কোন নারী সদস্য নিয়ে আজকাল কোন বিকেল, সন্ধ্যা বা রাতে অথবা দিনে কোন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গেলেও দেখি অনেকেরই চোখ বড় হয়ে যায়। পেছনে চলে নানান সমালোচনা। কাজেই এ জগতে সমালোচকের অভাব নেই। যারা নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক নানা বিষয়ে আমায় নিয়ে অপপ্রচার দিয়ে বেড়ায় তাদের বিচারের দায় একজনের কাছেই। সমালোচনা-পরনিন্দা আর অপবাদ রটিয়ে বেশিদূর এগুনো যায় না। আল্লাহর কাছে অপপ্রচারকারীদের হেদায়েত কামনা করি এবং তাদের কর্মের নিন্দা জানাই। অপবাদ, অপপ্রচার নয়; কোন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ করে থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আমায় মিথ্যে প্রমাণ করুণ। না হলে বিবেকের কাঠগড়ায় নিজেকে হাজির করে ভাবুন, যা করছেন তা কতটুকু ন্যায়সঙ্গত। আমি যদি এতো খারাপই হয়ে থাকি তবে এতোদিন কোথায় ছিলেন আপনারা? তখন তো আমার অসংখ্য সংবাদ/প্রতিবেদন নিজেদের টাইমলাইনে/গ্রুপে শেয়ার করতেন। বাহবা দিতেন। মূলত কথা হলো, পক্ষে লিখলে হাততালি, নইলে গালি।