ঢাকা   রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সেই দুঃস্বপ্নে এখনো আঁতকে উঠেন তাঁরা

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:29:16 pm, 2019-08-21 |  দেখা হয়েছে: 11 বার।

স্টাফ রিপোর্টার : মৃত ভেবে মর্গে লাশ ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল তাকে। টানা ছয় ঘণ্টা লাশ ঘরে পরে ছিলেন। লাশ শনাক্ত করতে গিয়ে, জীবিত দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয় তাকে। ৭২ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। মরতে মরতে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। তবে ফিরে পাওয়া প্রাণে প্রতিনিয়ত অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে তাকে। গোটা শরীরে গ্রেনেডের ১৮শ’ স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন। রাতে স্প্রিন্টারের যন্ত্রণায় ভালোমতো ঘুমাতেও পারেন না।  
 
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাহবুবা পারভীনের নতুন জীবন পাওয়ার গল্প এটি। সেদিনের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানের লাশের পাশে যে তিনজন নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তাদেরই একজন সাভারের মাহবুবা পারভীন। বললেন, আইভি আপা মরে বেঁচে গেছে, আর আমি বেঁচেও মরে আছি। এখন আমি অর্ধমৃত একটা আহত মানুষ। শুধু মাহবুবা পারভীন নয়; সে দিনের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আহত হন আরো কয়েক শত নেতাকর্মী। গ্রেনেড হামলায় আহত সকলের গল্পগুলোই এমন বেদনার। সেদিনের কথা মনে হলে  সেই দুঃস্বপ্নেএখনো আঁতকে উঠেন তারা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শরীরে ৫৬টি স্প্রিন্টার নিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। যে ৫৬টা স্প্রিন্টার শরীরে আছে সেগুলো আর বের করা যাবে না। কিডনিতে আছে, পায়ের রগের মধ্যে আছে, শিরার মধ্যেও আছে স্প্রিন্টার। সেদিন শেখ হাসিনা যে ট্রাকে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ট্রাকের পেছনে ছিলেন পুরান ঢাকার মাজেদ সরদার রোডের বাসিন্দা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী রাশেদা আক্তার রুমা। গ্রেনেডের আঘাতে ১৮টি দাঁত পড়ে যায় তার। ডান পায়ে পচন ধরে এখন হাঁড়ে লেগেছে। এখন পঁচন শুরু করেছে বাম পা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া অর্থসহ স্বামীর অর্থে চিকিৎসা চালাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে রাশেদা আক্তার রুমা ক্যানসারে আক্রান্ত। তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ক্যানসারে পা পচে যাচ্ছে, শরীরের তীব্র জ্বালায় বাঁচতে পারছি না। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার এখনো শেষ হয়নি। জানোয়ারদের চূড়ান্ত বিচার দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পেতাম। গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত রতœা আক্তার রুবী (৩৮) প্রায় ৫০টি স্প্রিন্টার এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনার কয়েক মাস পরেই তার শরীরের ডান দিকের অকেজো কিডনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফেলে দিতে হয়েছে। অসুস্থতার প্রয়োজনে প্রতি মাসে ইনজেকশন, এন্টিবায়োটিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। স্বামী সবুজ হাওলাদার ও এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে থাকেন মিরপুরে। গ্রেনেডের যন্ত্রণা পিছু না ছাড়লেও ঘাতকদের বিচার দেখে যেতে চান তিনি। বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেনের শরীরে এখনো ১০ থেকে ১২টি স্প্রিন্টার রয়ে গেছে। যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তাকে এই স্প্রিন্টারের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লিটন মোল্লা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনিও। এখনো তার শরীরের নানা জায়গায় ক্ষত ও স্প্রিন্টার রয়ে গেছে। শ্রবণ শক্তিও প্রায় নেই বললেই চলে। অসুস্থতার কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না তিনি। মাদারিপুর জেলা সদরের ছিলারচর ইউনিয়নের পশ্চিম রঘুরামপুর গ্রামের প্রাণ কৃষ্ণ সেদিন স্প্রিন্টারের আঘাতে চোখ হারিয়েছিলেন। তার পরিবার এখন চলছেন সহধর্মিনীর কাজের ওপর। সেদিনের গ্রেনেড হামলায় আহত হন উম্মে রাজিয়া কাজল। বর্তমানে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি। একুশে আগস্ট আহতদের মধ্য থেকে উম্মে রাজিয়া কাজলসহ আরো একজনকে সংরক্ষিত আসনে এমপি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের একজন নাসিমা ফেরদৌস। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এই নারী এখনো বয়ে চলেছেন শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। শরীরের ভেতরেই দুঃসহ যন্ত্রণা তাকে প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহ হামলার কথা। জনসমাবেশে গিয়ে স্প্রিন্টারের আঘাতে ডান হাত নষ্ট হয়ে যায় ফরিদপুরের আবদুল করিম মঞ্জুর। হাতের চিন্তায় পরে স্ট্রোকও করেন। সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করছেন মঞ্জুকে। মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। মাসে পাঁচ হাজার করে টাকা দেয়া হয়। ওষুধের পেছনে এই টাকা ব্যয় হয়। ওই হামলায় পল্লবী থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী দৌলতুন নাহারের পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়াসহ দুই পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে কয়েক দফা অপারেশন হয় তার। নাহারের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাম চোখেও ঝাপসা দেখেন তিনি
 
সুত্র/ভোরের ডাক