ঢাকা   শুক্রবার ২৩ অগাস্ট ২০১৯ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

মহামারি আকার ধারণ করছে ডেঙ্গু

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:12:50 pm, 2019-07-25 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

অনলাইন ডেস্ক::জুলাই মাসের প্রথম দিন ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১২২ জন। এরপর থেকে ক্রমেই বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়তে বাড়তে গত ২২ জুলাই অতীতে একদিনে আক্রান্ত হওয়ার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০৩ জনে। এরপর প্রতিদিনই হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। মাত্র ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে ২৪ জুলাই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ জনে। পাশাপাশি বেশ প্রাণঘাতিও হয়ে উঠছে এ ডেঙ্গু। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে অনুসন্ধানে সরকারি হিসেবের সাথে বাস্তবের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ইন কন্ট্রোল রুমের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ১২ হাজার ৭৫৯ জন ভর্তি হন। এরমধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪ হাজার ১৯৪ জন। আর এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছে ৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে  ৬৯৭ জন।
 
কিন্তু সরকারের এ হিসেবের সাথে বাস্তব চিত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি হিসেবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত যেখানে ১০ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে সেখানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার অধিকাংশের নামই তালিকায় নেই।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে গত সপ্তাহে হাসি সমাদ্দার নামের বক্ষব্যাধি হাসপাতালের একজন সেবিকা মারা যান। তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। সরকারি হিসেবে এই মৃত্যুর তথ্য নেই। গত ২৬ জুন হলি ফ্যামেলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে তাসমিয়া খানম নামের ২৬ বছর বয়সী এক নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় মারা যান। ওই দিন রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি তাদের অজানা। এমনকি গতকাল বুধবার পর্যন্তও এটি তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
 
এ ছাড়া মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, তাদের হাসপাতালে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের তালিকাতে নেই এ চার জনের মৃত্যুর তথ্য। পুলিশ কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালক ডা. এবিএম শরীফ উদ্দিন বলেন, তাদের হাসপাতালে ১৯ জুন জাকিয়া সুলতানা নামের একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মৃত্যুর  তথ্যও নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকায়। ২৪ জুন পাঁচ বছরের সাবিকুন নাহার, ৫ জুলাই সাত বছর বয়সী ইরতিজা শাহাদ প্রত্যয় এবং ১৫ জুলাই চার বছরের লাবণ্য আলিনার মৃত্যুর তথ্য নেই কন্ট্রোল রুমের তালিকায়।
 
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমে জানতে চাইলে দায়িত্বরত সহকারি পরিচালক ডা. আয়েশা আখতার বলেন, রোগণত্ত্ব , রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে মৃত্যুর তথ্য আমাদের দেয়া হয়। আইইডিসিআর ডিক্লেয়ার করলেই কেবল আমরা বলতে পারি। তাদের একটি পৃথক ডেথ রিভিউ কমিটি রয়েছে, যারা এসব মৃত্যু তদন্ত করে প্রকাশ করে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সব খবরই আমরা জানি। কিন্তু আইইডিসিআরের কাছে যখন সরাসরি খবর চলে যায় এবং তারা যেহেতু বিষয়টি পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই তারা যদি কনফার্ম না করে, তাহলে আমরা তা দিতে পারি না।
 
এ বিষয়ে জানতে ডেথ রিভিউ কমিটির প্রধান ও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে একাধিকবার মুঠোফোন করলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
 
এ দিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই মেয়রকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু  ছড়িয়ে পড়ছে, প্রাণহানি ঘটছে। হাসপাতালে নতুন রোগী মানেই হচ্ছে ডেঙ্গু। এটা উদ্বেগের বিষয়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র জানিয়েছেন তাদের কাছে যে ওষুধ আছে তা অনেকটা অকার্যকর। কার্যকর ওষুধ আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা যাতে ওষুধ সিলেকশনের ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে সাজেশন দেয়। কারণ রং মেডিসিন দিয়ে তো কোনো কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে দেখতে বলেছি। আমাদের প্রতিবেশী দেশেও নাকি এ ওষুধ আছে। সেখান থেকে যতদ্রুত সম্ভব আনার ব্যবস্থা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় টনক নড়েছে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের অধীনে মশক নিধন সপ্তাহ পালিত হবে।
 
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সভায় মিলিত হবেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ক্রমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করবেন। 
 
সুত্র/ভোরের ডাক