ঢাকা   সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:32:36 pm, 2019-06-21 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে আগামীকাল (শনিবার) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে  জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আগামী শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ দিন ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
 
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, এই রাউন্ডে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল স্বল্পতার কারণে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল-এই তিনটি বিভাগের সকল জেলা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন,গাজীপুর সিটি করপোরেশন,ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন-এই ৬টি সিটি করপোরেশনে শুধুমাত্র নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল (১ লাখ আই.ইউ) দিয়ে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে । এক্ষেত্রে ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার  শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আই, ইউ মাত্রা) ৬-১১ মাস বয়সী প্রায় ২৫ লাখ ৩৩ হাজার শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আই, ইউ মাত্রা) খাওয়ানো হবে।
 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্র শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার ভ্রাম্যমান কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভ্রাম্যমান কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, ব্রীজের টোল প্লাজা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ব্রীজ, দাউদকান্দি ও মেঘনা ব্রীজ, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট  ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে। 
 
প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে  ক্যাম্পেইন দিবসেই ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। এই রাউন্ডে  দুর্গম এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ১২ টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না তবে ক্যাম্পেইন পরবর্তী আরো ৪/৫ দিন নির্দিষ্ট ইপিআই কেন্দ্র থেকে ১২টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলাসমূহে (রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি) বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ।
 
আগামী ২২ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্র খোলা থাকবে। শিশুদের ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। কাঁচি দিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মুখ কেটে এর ভিতরে থাকা সবটুকু তরল ওষুধ চিপে খাওয়ানো হবে। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সী, ৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
 
একই সাথে আন্তঃব্যক্তি যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের (সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল, বাংলাদেশ বেতার, কমিউনিটি রেডিও এবং বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা) সহায়তায় জন্মের পরপর (১ ঘণ্টার মধ্যে) শিশুকে শালদুধ খাওয়ানোসহ প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পরিমাণ মত সুষম খাবার খাওয়ানো বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে।
 
মন্ত্রী বলেন, দেশবাসী সকলের কাছে আমার আবেদন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন দিবসে একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে, উদ্দিষ্ট সকল শিশুকেই যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। যাদের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী  শিশু আছে সেই সব মা-বাবা এবং অভিভাবকগণ যেন অবশ্যই এ সেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি কোনো কুচক্রী মহল নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য সকল গণমাধ্যম কর্মীদের  জনগণের পাশে থেকে মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বাকন জানান তিনি।
 
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে।