ঢাকা   শনিবার ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

ভোগান্তি নিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ছুটছে মানুষ

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:54:40 pm, 2019-06-01 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

অনলাইন ডেস্ক:গত ২৩ মে দীর্ঘলাইনে অপেক্ষার পর যারা কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পেয়েছিলেন, সেসব ঘরমুখো মানুষই আজ পরিবার-পরিজন নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে এসেছেন। ঈদকে সামনে রেখে অগ্রিম টিকিটের সিডিউল অনুযায়ী আজ দ্বিতীয় দিনের মতো কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন।

ঈদ আসলেই টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত পথে পথে ভোগান্তি পোহাতে হয় ঘরমুখো মানুষদের। তবুও ঘরে ফেরাতেই যেন সব আনন্দ। একঘেয়েমি জীবনের সাময়িক বিরতি দিয়ে কর্মজীবী এসব মানুষের সামনে আসে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার মুহূর্ত। প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার ঐতিহ্য বাঙালির দীর্ঘদিনের। তাইতো শত ভোগান্তি-বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে চলেছেন নাড়ির টানে।

শনিবার (১ জুন) সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে সব ট্রেনগুলো ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়ে ঠাসা। তবে অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনেগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল।

শনিবার সকাল থেকে কিছুটা বিলম্বে ট্রেন ছেড়ে গেলেও চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ৩ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে বলে স্টেশন থেকে জানানো হয়। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা হলেও ১০টা ৫৫ মিনিটে প্ল্যার্টফর্মে পৌঁছায়। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা একঘণ্টা বিলম্বে ১০টার পরে ছেড়ে যায়।

‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি গতকাল প্রায় ৭ ঘণ্টা বিলম্ব স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়। ফলে অতিরিক্ত একটি ট্রেনকে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নামকরণ করে আজ কমলাপুর ছাড়ে।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ‘গতকাল ট্রেনটি ব্যাপক লেট ছিল, সেই গ্যাপটা পূরণ করতে আমরা অন্য একটি ট্রেনকে “রংপুর এক্সপ্রেস” নামকরণ করে আজকের মতো পাঠিয়েছি। তবে আগামীকাল থেকে রংপুর এক্সপ্রেস মূল ট্রেনটিই চলাচল করবে।’

এদিকে তুলনামূলক খারাপ অন্য একটি ট্রেনকে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ নামকরণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। ট্রেনটির যাত্রী আহমেদ তাহের বলেন, ‘গত ২৩ মে দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনটির এসি টিকিট পেয়েছিলাম। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি কিন্তু রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিট আর এই এসি সিট এক নয়। তাহলে আমার এত ভোগান্তি সহ্য করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে কী লাভ হলো? তিনি আরও বলেন, ‘ওই ট্রেনে এসির যতগুলো সিট এই ট্রেনে ততগুলো নেই। কর্তৃপক্ষ প্রথম শ্রেণি-এসি মিলিয়ে ওই ট্রেনের যাত্রীদের এই ট্রেনে বসিয়েছে।’

তবে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ‘যেহেতু রংপুর এক্সপ্রেস লেট ছিল তাই সে গ্যাপ পূরণ করতে অন্য একটি ট্রেন দেয়া হয়েছে আজ। সে কারণে প্রথম শ্রেণি-এসি মিলিয়ে আমরা যাত্রীদের বসিয়েছি।’

যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘যেকোনো ধরনের যাত্রী হয়রানি দেখা গেলেই তা প্রতিরোধ করা হবে।’

ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ট্রেনগুলো দেরিতে কমলাপুরে পৌঁছেছে, সেই ট্রেনগুলোই ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছ। তবে আমরা চেষ্টা করছি ট্রেন ছাড়তে যেন আর বিলম্ব না হয়। সঠিক সময়ে যাতে সব ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে তার চেষ্টা করছি।’

চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে একজন সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘একবার ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটব, আবার ট্রেন লেটের কারণে স্টেশনে বসে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে। আসলে আমাদের সিস্টেমই খারাপ। বিশ্বের কোনো দেশে মনে হয় ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য মানুষকে এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয় না ‘

এই যাত্রী আরও বলেন, ‘ভোগান্তি নিরসনে এক অ্যাপ বানানো হলো, কিন্তু যাত্রীরা আশানুরূপ সুফল পেল না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রমজান মাসে দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষার চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কিছু থাকতে পারে না ।

ঈদে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন : ঈদুল ফিতরের সময় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। তবে বিশেষ ট্রেনের টিকিট অ্যাপের মাধ্যমে কাটা যাবে না। দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল (এক জোড়া) ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে।

চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (২ জোড়া ট্রেন) চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলবে। মৈত্রীর রেক দিয়ে খুলনা ঈদ স্পেশাল ট্রেন ঢাকা-খুলনা-ঢাকা; ঈশ্বরদী স্পেশাল ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা, লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে চলাচল করবে।

দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ও চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন ঈদের আগে ২, ৩ ও ৪ জুন এবং ঈদের পর ৬-১২ জুন চলাচল করবে। খুলনা ঈদ স্পেশাল ৩ জুন দিবাগত রাতে একটি ট্রিপ চলবে।

ঈশ্বরদী স্পেশাল ও লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন ঈদের আগে ২, ৩ ও ৪ জুন চলবে। এ ছাড়া ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল-১ (ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার) এবং শোলাকিয়া স্পেশাল-২ (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ) চলাচল করবে।

সুত্র/ আলোকিত বাংলাদেশ